নিজস্ব প্রতিবেদক।। রূপগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে এক বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুইজন-কে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিতলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্ত স্বামী জুলহাস ও শাশুড়ি সাহেরা বেগম-কে আটক করে পুলিশ। ভুক্তভোগী গৃহবধূ কাজল রেখা উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়াপাড়া গ্রামের আম্বর আলীর বাকপ্রতিবন্ধি মেয়ে।
স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানান,ছয় বছর আগে কেন্দুয়াপাড়া গ্রামের আম্বর আলীর বাক প্রতিবন্ধি মেয়ে কাজল রেখার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পিতলগঞ্জ গ্রামের মিম্বর আলীর ছেলে জুলহাসের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় জুলহাস-কে নগদ এক লাখ টাকা,স্বর্ণালংকার ও ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র দেয় কাজল রেখার বাবা। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে ভুক্তভোগীর স্বামী ও শাশুড়ি মিলে আরও একলাখ টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কয়েকদিন ধরে টাকার জন্য কাজল রেখাকে নির্যাতন শুরু করে স্বামী জুলহাস ও তার পরিবার।
এ ঘটনায় এলাকায় কয়েক দফা সালিশও হয়। বর্তমানে তাদের জান্নাত নামে চার বছরের একটি মেয়ে আছে। আজ ভোরে এলাকাবাসী বাড়ির পাশে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা মুমূর্ষু অবস্থায় কাজল রেখাকে উদ্ধার করে। স্থানীয় কেপিএস জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করে দায়িত্বরত চিকিৎসক,বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়া উক্ত বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার এসআই পরেশ বাপ্পি এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী জুলহাস ও শ্বাশুরী সাহেরা বেগম-কে আটক করেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে চারজন-কে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
উক্ত বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ এর কাছে জানতে চাইলে আমাদেরবাংলাদেশ.কমের প্রতিবেদক-কে তিনি বলেন, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গৃহবধূর মা আকলিমা বেগম চারজন-কে আসামি করে মামলা করেছেন। তাদের মধ্যে দুইজন-কে আটক করা হয়েছে। বাকি দুই আসামিদের-কে আটকের চেষ্টা চলছে।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/ জাহাঙ্গীর